ক্যাসিনো আন্দামান – মাসুদ রানা – কাজী আনোয়ার হোসেন (Casino Andaman – Masud Rana By Kazi Anwar Hossain)

একটু চোখ বুলিয়ে নিন

এক

এ যেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই চিরসত্য উচ্চারণ-তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা । একজনের শুরু হবে, আরেকজনের হবে সারা । এই নিয়ম। আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে চলতি ভয়েজ শেষ হওয়ার পর প্রমোশন পেয়ে ক্যাপটেন হতে যাচ্ছে কমান্ডার সন্দীপন ব্যানার্জি । সেই সঙ্গে অবসরে চলে যাবেন প্রবীণ ক্যাপটেন শিবনাথ নাইডু।

গুরু-শিষ্য দুজনের মুখেই প্রসন্ন হাসি। শিবনাথ নাইড়ুর বিষন্ন চোখের দৃষ্টিতে স্নেহ ঝরে পড়ছে; তরুণ সন্দীপনের
উজ্জ্বল, সুশ্রী চেহারায় ফুটে উঠেছে সমীহ ৷

চার হপ্তা পাঁচদিন হলো পানির নীচে রয়েছে ওরা, এই কদিন ফুসফুসে তাজা বাতাস ভরা হয়নি, দেখার সুযোগ মেলেনি
আকাশ কিংবা ডাঙা। পোর্টহোলে চোখ রাখলে সার্চলাইটের কল্যাণে নীলচে-সবুজাভ , গভীরতায় ঝাক ঝাঁক সামুদ্রিক মাছ দেখা যায়, নীচে তাকালে কখনও হয়তো বা ডুবো পাহাড়ের চূড়া; দৃষ্টিবিভ্রমের কারণে মনে হয় পিছিয়ে যাচ্ছে ওদের কাছ থেকে।

আপাত একঘেয়ে আর বৈচিত্র্হীন মনে হলেও, কমান্ডার সন্দীপনের জন্য সময়টা ভারি আনন্দ আর উত্তেজনার মধ্যে কাটছে। বাংলার ছেলে হয়ে ত্রিশ না পেরুতেই এতটা উপরে উঠে আসা, প্রায় অসাধ্যসাধনই বলা যায়। সন্দেহ নেই কঠোর পরিশ্রম আর অবিচল নিষ্ঠার সুফল পাচ্ছে ও এতদিনে ।

ক্যাপটেন হিসাবে প্রমোশন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্জুনের স্কপার-এর দায়িত্টাও তুলে দেওয়া হবে ওর হাতে, কথাটা মনে হলেই রোমাঞ্চিত হয়ে উঠছে সন্দীপনের সমগ্র অস্তিত্ব । শুধু কর্মজীবনে নয়, সাংসারিক জীবনেও অত্যন্ত সুখী
একজন মানুষ সন্দীপন । প্রেম করে বিয়ে; এবং ওদের দুজনের ধারণা ঈশ্বর ওদেরকে একান্তই পরস্পরের জন্য তৈরি করেছেন; ওদের মিলন হয়েছে তার বিশেষ ইচ্ছেতে । তিনি ওদেরকে গত মাসে ফুটফুটে একটা পুত্রসন্তানও উপহার দিয়েছেন, ঠিক যেদিন রুটিন অপারেশনাল সিক্রেট ভয়েজে রওনা হলো অর্জুন ।

আন্দামান সাগর । মধ্যরাত ।
পানির সারফেস থেকে পাচশ’ ফুট নীচ দিয়ে ছুটে চলেছে অর্জুন। অর্জুন ভারতীয় নৌ-বাহিনীর গর্ব, ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন । পাঁচ হপ্তা হতে চলল ভারতের দক্ষিণ-পুর্ব উপকূল, অন্ধ প্রদেশের ভিশাখাপতনম ঘাঁটি থেকে রওনা হয়েছে ওরা । ভিশাখাপতনম থেকে বেরিয়ে প্রথমে পশ্চিমে গেছে অর্জুন, আরব সাগরের বিরাট এলাকায় টহল শেষ করে আবার ফিরে ঘিরে একটা চক্কর দিয়েছে, আন্দামান সাগর হয়ে এখন আবার ফিরছে বঙ্গোপসাগরে । আরও দুদিন টহল দিয়ে, অবশেষে পঁইত্রিশ দিনের মাথায় ফিরে যাবে নিজ ঘাটি ভিশীখাপতনমে ।

সাগরের গভীরতায় প্রায় অটুট নীরবতা বজায় রেখে এবং সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে অর্জুন । দেখতে না পাওয়ায় এ-ধরনের সাব সম্ভাব্য শত্রুর জন্য সারাক্ষণ একটা হুমকি বটে ।

দুশ’ আশি ফুট লম্বা অর্জুন। একশ বিশজন ক্রু তিন শিফটে পালা করে ডিউটি দেয়। প্রতিবার একটানা সত্তরদিন পানির উপর না উঠে সবগুলো মহাসাগর চষে বেড়াতে পারে ওরা। বিফুয়েলিং ছাড়াই পেরুতে পারে ছয় লক্ষ চল্লিশ হাজারকিলোমিটার ডুবো-পথ।

অর্জুন পারমাণবিক শক্তিতে চলে । খোলের ভিতর অনায়াসে জীয়গা করে নিয়েছে ছোট একটা নিউক্লিয়ার রিয়াক্টর| নৌ-বাহিনীর সবার ধারণা, ওই রিয়াক্টরের ডিজাইন তৈরি করেছেন ভারতের পরমাণু বিশেষজ্ঞ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং ।

সেটার ডিজাইন খুবই জটিল। আর কাজ হলো, কোনও প্রেশার ভেসেল-এর ভিতর নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণে হিট এনার্জি উৎপাদন করা ।

এই হিট এনার্জি একটা পাইপিং সিস্টেমে চলে যাচ্ছে । ওখানে গিয়ে আরেক প্রস্থ পাইপিং সিস্টেমের পানিকে গরম
করতে সময় নিচ্ছে মাত্র এক সেকেন্ড । উত্তপ্ত পানি পরিণত হচ্ছে বাম্পে, সেই বাম্প একটা টারবাইনের মধ্য দিয়ে গিয়ে শক্তি যোগাচ্ছে অর্জুনের প্রপালশন ড্রাইভকে ।

সাবমেরিনের প্রেশার খোল ঘিরে, ক্রুরা যেখাসে বাস করে, “এক সারি ব্যালাস্ট ট্যাংক বসানো আছে । ডাইভ দেওয়ার সময় বয়্যান্সি কমানোর দরকার পড়ে, তখন সাগরের পানি ভরা হয় ট্যাংকগুলোয় । আর সারফেসে ওঠার সময় বয়্যান্সি বাড়াবার জন্য ট্যংকের ভিতর ঢোকানো হয় কমপ্রেসড এয়ার । পানির কত নীচ দিয়ে সাবমেরিন চলবে সেটা নির্ভর করবে কটা ট্যাংকে কী পরিমাণে পানি’ভরা হয়েছে তার উপর ।

অর্জুনে একটাই কন্ট্রোল রুম, সেটাকে ব্রিজও বলা হয়। ব্রিজটা পিছনদিকে, প্রপেলারের কাছাকাছি। হালটা ব্রীজেঃ ডান ও বাম দিকের মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে।

পানির তলায় নিজের অস্তিত্ব গোপন রাখবার একটাই উপায় সাবমেরিনের, মৌনব্রত অবলম্বন করা । অর্জুনের গায়ে আছে রাবারের তৈরি বিশেষ ধরনের আচ্ছাদন, শক্রর সোনার সিগনাল হজম করে নেয়, প্রতিধ্বনিত হতে দেয় না।

উপস্থিতি গোপন করবার আরও একটা উপায় হলো আশপাশের চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পানিতে সরে যাওয়া, তাতে একটা
‘আকুসটিক আবরণ তৈরি হয়, যে আবরণকে সোনার ওয়েভ ভেদ করতে পারে না। আধুনিক নিউক্লিয়ার সাবমেরিন পনেরো শো ফুট নীচে পর্যন্ত নামতে পারে বলে শোনা যায়। তবে সঠিক তথ্যটা আসলে ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন, কখনোওই প্রকাশ করা হয় না। জীইরোকমপাস-এর সাহায্যে পানির নীচ দিয়ে অনায়াসে চলাচল করে অর্জুন, এমনকী গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা সাগরের তলাও কোনও সমস্যা নয়। গ্লোবাল পজিশনিং’ সিস্টেম স্যাটেলাইট
নেটওঅর্কও ব্যবহার করছে ওরা, ফলে বিশাল মহাসাগরের ঠিক, কোথায় কখন আছে বুঝে নিতে কয়েক সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে না ক্যাপটেন শিবনাথ নাইড়ুর; ভুলের মার্জিন বড়জোর কয়েক মিটার । বিশেষ ধরনের এন্টেনার সাহায্য নিয়ে রেডিও মেসেজ রিসিভ ও ট্র্যা্সমিট করা হয়।

প্রায় প্রতিটি মিশনেই ইলেকট্রনিক সাইলেন্স বজায় রাখার ইনকামিং মেসেজ কপি করা ছাড়া রেডিও অপারেটর অরোরা চৌহান-এর আর কোনও কাজ নেই।
কোড করা এই মেসেজের মাধ্যমেই নৌ-বাহিনীর হেডকোয়ার্টার থেকে যখন যেমন প্রয়োজন নির্দেশ পায় ওরা ।
তবে পানির নীচে থাকা অবস্থায়ও লো ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও ওয়েত পিক করতে পারবে চৌহান, ট্রেইলিং ওয়ায়্যার আ্যান্টেনার সাহায্য নিয়ে ।
পাঁচ হপ্তার রুটিন অপারেশনাল সিক্রেট ভয়েজ-এর উদ্দেশ্য হলো সুবিশাল ভারত মহাসাগর সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন, যুদ্ধ ছাড়াও এই অভিজ্ঞতাকে আরও অনেক কাজে লাগানো যাবে।

অর্জুন যেহেতু ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন, মারণাস্ত্র হিসাবে সঙ্গে আছে টিউবে ভরা আটটা ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল, প্রতিটিতে একটা করে প্রচ্ড শক্তিশালী নিউক্লিয়ার ওঅরহেড ফিট করা। এক-দেড় কোটি মানুষ বাস করে এরকম একটা বড় শহরকে চোখের নিমেষে নিশ্চিহ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে প্রতিটি, নিউক্লিয়ার ওঅরহেড |

এই মুহূর্তে কমান্ডার ও ক্যাপটেন, দুজনেই ব্রিজে; শিষ্যকে আশীর্বাদ করছেন গুরু ।

রাত ঠিক বারোটায় অর্জুনের দায়িত্ব কমান্ডার সন্দীপনের হাতে তুলে দিয়ে ব্রিজ থেকে বিদায় নিলেন শিব্নাথ নাইডু ।
করিডর ধরে অফিসার্স কোয়ার্টারের দিকে ফিরছেন তিনি।

অফিসার্স কোয়ার্টারের কাছাকাছি পৌছে প্রবীণ ক্যাপ্টেন ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন । আর মাত্র দুদিন পর
অবসর নিতে যাচ্ছেন, অথচ এখনও পরিষ্কার নয় জীবনের বাকি দিনগুলো কীভাবে কাটবে তার ।

একটাই মাত্র ছেলে, বউ-বাচ্চা নিয়ে ইউরোপে থাকে; সেখান থেকে তাগাদা দিয়ে বলা হয়নি, তুমি চলে এসো
আমাদের কাছে। মেয়েও একটা, স্বামীর সঙ্গে একই ভার্সিটিতে শিক্ষকতা করে, থাকে দুই কামরার একটা ফ্ল্যাটে; ওরা চাইলেও ওখানে যাওয়ার ইচ্ছে নেই ওর।

বাকি থাকলনিজ গ্রাম। উষর মরুতে সেটা, রাজস্থানের প্রত্যন্ত এলাকায়। আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলতে গিয়ে টলে
উঠলেন ক্যাপটেন নাইডু । হুম, ভাবলেন তিনি, প্রেশারটা আবার বাড়ায় মাথা ঘুরছে।

একটু পরেই নিজের ভুল বুঝতে পারলেন ক্যাপটেন নাইডু । করিডর ঢালু হয়ে গেছে একদিকে । হোচট খেলেন তিনি, বুঝতে পারলেন সামনের দিকেও ঝুঁকে আছে অর্জুন। ওহ্‌, ভগবান! সন্দীপন ডাইভ দিচ্ছে! কেন?

সাবধানে ঘুরলেন ক্যাপ্টেন, করিডরের দেয়ালে ফিট করা লম্বা সাপোর্ট বার আকড়ে ধরে ধীরে ধীরে ব্রিজের দিকে
ফিরছেন ।

কিন্তু ওর আর ফেরা হলো.না।
ব্রিজ। হঠাৎ কমপিউটার স্ত্রিনে চোখ পড়তে বিচিত্র একটা দৃশ্য দেখতে পেল সন্দীপন । প্রথমে বড়সড় এক ঝাঁক হাঙর, তারপর প্রকাণ্ড আকারের কয়েকটা স্কুইড তির্যক একটা পথ ধরে: দিশেহারা ভঙ্গিতে সাগরের গভীর থেকে উঠে এল, যেন কারও ধাওয়া খেয়ে পালাচ্ছে।

ওগুলোর পিছু নিয়ে উঠে এল কয়েকটা নীল তিমি । মনে হলো কোনও কারণে সাভঙ্ঘাতিক ভয় পেয়েছে ওগুলো, এতই বিচলিত, যে প্রায় তিনশ” ফুট লম্বা অর্জুন কিংবা ওটার তিন পাশে ফিট করা চোখ-ধাধানো সার্চলাইট যেন দেখতেই পেল না। একেবারে শেষ মুহূর্তে কয়েকটা কোনও রকমে এড়িয়ে যেতে পারল সাবমেরিনটাকে, দুটো সোজা এসে গোত্তী খেল ইস্পাতের চেয়েও শক্ত টাইটেনিয়ামের গায়ে ।

প্রচণ্ড ঝাঁকি খেল সাবমেরিন। ডেকের সঙ্গে বোল্ট দিয়ে আটকানো নয় এমন প্রতিটি জিনিস ছিটকে পড়ল মেঝেতে ।
ঝনঝন শব্দে ভাঙল কীচের কাপ-পিরিচ-বাসন।

নিজেকে সামলে নেওয়ার পর চার-পাঁচটা স্ক্রিনে পালা করে তাকাচ্ছে সন্দীপন। অর্জুনের চারপাশে একই দৃশ্য ঝাঁক ঝাঁক উদভ্রান্ত মাছ যে যেদিকে পারে ছুটে পালাচ্ছে । সচল ও নিশ্ছিদ্র রুপালি মেঘের মত লাগছে ওগুলোকে। ব্যাপারটা কী!

সন্দাপন ভাবল, দেখা দরকার কী ব্যাপার। ডাইভ দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে কন্ট্রোল প্যানেলের সুইচ ‘টিপল কয়েকটা। তারপর মেসেজ পাঠাল ইঞ্জিন আর রেডিও রুমে-আমরা ডাইভ দিচ্ছি।

একশ’ বিশজন ক্রুর মধ্যে এই মুহূর্তে চল্লিশজন বিভিন্ন পোস্টে ডিউটি দিচ্ছে, ডাইভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের
সবার নিয়তির চাকা বিশেষ একদিকে ঘুরিয়ে দিল সন্দীপন । ওর নিজেরটাও।

অর্জুনের স্পিড এই মুহুর্তে প্রতি ঘন্টায় বিশ নটিকাল মাইল।

গোত্তা খেয়ে নীচে নামছে অর্জুন । সার্চলাইটের উজ্্বল আলোয় এখন শুধু মাছ নয়, সন্দীপনের চোখে নীল শ্যাওলাও ধরা পড়ছে। দেখতে দেখতে শ্যাওলাই বেশি হয়ে উঠল, মাছগুলো তার ভিতরে হারিয়ে যাচ্ছে। কী ঘটছে ধারণা করতে পেরে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন বোধ করল সন্দীপন, কিন্ত খেয়ালি প্রকৃতি ওকে সময় দিল না।

অকস্মাৎ একযোগে যান্ত্রিক চিৎকার জুড়ে দিল কয়েক ধরনের আ্যালার্ম সিস্টেম ।

ঝট করে সোনার ডিসপ্লের দিকে তাকাতেই অন্তরাত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠল সন্দীপনের ৷ সাগরের নীচের দিক থেকে অর্জুনকে লক্ষ্য করে ছুটে আসছে নিরেট অথচ অচেনা আকৃতি । একটা নয়, অসংখ্য ।

আরেকটা ডিসপ্লে আ্যালার্ম বাজিয়ে জানান দিচ্ছে সাগরের তলায় ভূমিকম্প শুরু হয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মাত্রায ধরা পড়ছে আন্দামান সাগরের তলায় ।

ঘড়ির ডায়ালে চোখ বুলাল সন্দীপন । বিচিত্র দৃশ্যটা প্রথম দেখবার পর থেকে মাত্র পচিশ সেকেন্ড পার হয়েছে । কন্ট্রোল প্যানেলের উপর ঝুঁকে বিদ্যুৎবেগে কয়েকটা সুইচ টিপল ও।

যত দ্রুত ডাইভ দিয়েছিল, তার দ্বিগুণ গতিতে উপরে উঠছে অর্জুন। আরও দশ সেকেন্ড পর, কমপিউটার স্কিনে তাকিয়ে আছে সন্দীপন, অকস্মাৎ সার্চলাইটের উজ্জ্বল আলো ম্লান হয়ে গেল। তার বদলে আন্দামান সাগরের গভীর অতলে টকটকে লাল আগুন দেখতে পেল ও। তবে সেটা মাত্র দুই কি তিন সেকেন্ডের জন্য ।

ওদের সবার দুর্ভাগ্য যে এই মুহূর্তে অর্জুনের, একটু সামনে, মাত্র একশ’ বিশ ফুট নীচে, একটা ডুবো আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হতে যাচ্ছে। চোখের পলকে টকটকে লাল জ্বালামুখটা এত বড় হয়ে উঠল, ওটা ছাড়া স্কিনে আর কিছু থাকল না।

ঠিক এই মুহূর্তে ওর মনে পড়ল, ছেলেটার নাম রাখা হয়নি। ওহ্‌ ভগবান, ভাবল ও, ছেলেটাকে আমার দেখাই হলো না!
পরবর্তী কয়েকটা সেকেন্ড যেন স্লো মোশন সিনেমা হয়ে উঠল । উত্তপ্ত লাভার বিস্ফোরণ ধাওয়া করল ছুটন্ত অর্জুনকে ।
গতি আরও বাড়াতে সন্দীপন যেন অসহ্য রকম দেরি করছে, আসলে সুইচগুলো, টিপতে আধ সেকেন্ডের বেশি লাগেনি ওর । তরল লাভার সঙ্গে উঠে আসছে নিরেট পাথর, সেগুলোও লাল আগুন হয়ে আছে।

লাভার উদ্গিরন এক পলকে সাবমেরিনটাকে ঢেকে দিল । টাইটেনিয়ামে তৈরি শরীর, সহজে গলবে না বা পুড়ে ছাই হবে না, তবে নিশ্চয়ই ক্ষতবিক্ষত হবে ।

নিভে গেল সার্চলাইট, কাজেই অর্জুনের বাইরে কী হচ্ছে দেখবার সুযোগ থাকল না। সেই সঙ্গে অচল হয়ে পড়ল
ক্যামেরা, বিভিন্ন ধরনের সেনসর আর ডিটেকটিং ইকুইমেন্ট।

এক মুহূর্ত পরে হামলা করল পাথরগুলো। পাথর নয়, যেন একেকটা প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরক, ছিটকে এসে টর্পেডোর মত আঘাত করছে।

প্রচণ্ড ঝাঁকি খাচ্ছে সাবমেরিন। তুবড়ে যাচ্ছে টাইটেনিয়াম খোল। ভিতরের ইকুইপমেন্ট আর টিউবিং দুমড়ে-মুচড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছে । থামাথামি নেই, একের পর এক পাথরের আঘাতে……


সম্পূর্ণ বইটি পড়তে চাইলে নিচের ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে বইটি ডাউনলোড করে নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top